দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৯৮ জন নিহত হয়েছেন। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের পর্যটকও রয়েছেন। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে উজানে আটকে থাকা নদীর বাধা। এতে দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কায় সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যসহ অন্তত ৮৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৪ জনে। তাদের মধ্যে ৩৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক। তবে এখনো কতজন স্থানীয় বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন, তা জানা যায়নি।
বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অবকাঠামোরও। এখন পর্যন্ত ১৯টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক নষ্ট হয়েছে।
সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতের জিরং এলাকাতেও বন্যার ভয়াবহতা দেখা গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সেখানে অন্তত তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে, একই নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় গত বছরও প্রাণঘাতী বন্যা হয়েছিল। গত বছরের জুলাইয়ে ভোতে কোশী নদীর বন্যায় ৯ জন নিহত এবং ২৪ জন নিখোঁজ হন। ওই বন্যায় নেপাল ও চীনের মধ্যে সংযোগকারী ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ ভেসে যায়। এতে কয়েক মাস ধরে দুই দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
জলবায়ু পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেই বন্যার কারণ ছিল তিব্বতে একটি হিমবাহের ওপর গড়ে ওঠা হ্রদের পানি হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়া। হিমবাহের ওপর জমে থাকা বরফ গলে প্রথমে ছোট ছোট জলাধার তৈরি হয়। পরে সেগুলো বড় হয়ে একত্রিত হয়ে বৃহৎ হ্রদে পরিণত হতে পারে। অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে গেলে তা নিচের দিকে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।
তবে এবারের বন্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের পর নেপালের লেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও শিলার ধস নেমে নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়। পরে সেই বাধার কারণে জমে থাকা পানি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে এসে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে থাকতে পারে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেন্দে খোলা নদীর উজানে এখনো একটি বাধা আটকে থাকায় দ্বিতীয় দফা বন্যা হতে পারে। এ কারণে নেপালের সীমান্তবর্তী ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশেও বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হিমালয় থেকে নেমে আসা কয়েকটি নদী নেপাল পেরিয়ে ভারতের সমতল অঞ্চলে প্রবাহিত হয়েছে।
উদ্ধারকাজে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা কাজ করছেন। তবে বন্যার পানি না কমা পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিপর্যস্ত নেপালের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে কথা বলে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকেও বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই কঠিন সময়ে নেপালের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে শ্রীলঙ্কা।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন জানিয়েছেন, নেপাল ও চীনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি ‘কোপার্নিকাস’ সক্রিয় করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনে আরও ইউরোপীয় সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
/অ